রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

রূপনগর সংবাদ --- ৩২

।।মধুমিতা নাথ ।।
-------------------------------
অলিন্দ আর নিলয়ের মাঝখানে
বহমান ঝিরঝির ছোট নদী
কিছু রূপ চুপ কথা
রোজ লজ্জাবতী ফুল হয়ে ফোটে
কূজন-মুখরিত উপত্যকা ঢাল গড়িয়ে
বনছায়া কাঁপে তিরতির।

অদৃশ্য হাতছানিতে
পেলব দিনগুলোর অবাক জলপান।
সেদিন শ্রাবণ ঢল ,
যৌবনা স্রোতস্বিনী উথাল পাথাল
নীলাভ অভিযানে বেসামাল বেসামাল
আপন কস্তুরী গন্ধে হরিণী মাতাল।
স্বপ্ন-সেতু-বন্ধন শেষে হেমন্ত নামে , ফসল শূন্য মাঠে অবারিত অপেক্ষা
একবিন্দু সুধা সিঞ্চন আকুলতা
ঝিম-ধরা সময়ে
পুড়ে পুড়ে খাক্ হয় কিছু জ্বলন্ত দুপুর।।
-------------//--------
*ত্রিপুরার রাজন্য আমলের কবি অনংঙ্গ মোহিনী দেবীর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য
মধুমিতা নাথ

মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

একটি পত্র

 মধুমিতা নাথ

ম্যাম ,
প্রণাম তুমি নিতে চাওনা , জানি। কিভাবে যে শুরু করি ! তুমি ভালো আছো ? জানি বলবে ---" বিন্দাস!"। আমি ভালো নেই। এবার তুমি আমায় একচোট বকুনি দেবে। "উল্লুক" , "মুরগি চোর" , "ন্যাকা চৈতন্য" ...। কতদিন হলো তোমার মিষ্টি বকুনিগুলো খুব মিস করি।

তুমি বলতে --- "সবসময় বলতে হয় ভালো আছি। ভালো থাকাটা একটু কঠিন ঠিকই। সবাই পারে না। আর সবাই যা পারেনা সেটা করতে পারাটাই তো আনন্দের " ।

কি অসম্ভব মনের জোর গো তোমার ! সবসময় হাসিমুখে থাকো কি করে ? তোমার কি কোনো সমস্যাই নেই ! কোন অসুখ বিসুখ ! তোমাকে আমরা বলতাম "IRON LADY" । কি সুন্দর পড়াতে তুমি ! তোমার প্রিয় চরিত্র শরৎ চন্দ্রের 'ইন্দ্রনাথ'। বলতে --- "ইন্দ্রনাথ সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে সৃষ্ট এক অদ্ভুত সৃষ্টি"। কি সুন্দর লাইন। এখনো কানে বাজে।কত বলবো আর !

আমাদের নিয়ে ভলিবল খেলতে। টুয়েলভ ক্লাসে পড়ার সময় স্কুলে সে বছর প্রথম আমরা মেয়েরা ভলিবল চ্যাম্পিয়ান হয়েছিলাম টিচারদের হারিয়ে দিয়ে। কি দারুণ ভালো লাগা। সেতো তোমার প্রেরণায় , তোমার চেষ্টায়! ! তারপর "ডাকঘর" নাটক ! "চণ্ডালিকা" তে আমাকেই তুমি প্রধান চরিত্রে সিলেক্ট করেছিলে। নাচ শেখালে , গান শেখালে , হাসতে শেখালে , বাঁচতে শেখালে।

যে কারণে তোমায় লিখতে ইচ্ছে হলো। বাঁচতে ভুলে যাচ্ছি। বাবার গলায় টিউমার অপারেশন হয়েছে। বিছানায় শয্যাশায়ী। মা নার্সারী স্কুলের ছোট্ট চাকরীটা এখনও করছেন। দিদি শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে এসেছে সারা গায়ে মার খাওয়ার চিহ্ন নিয়ে। আর যাবে না। আমি অনার্স গ্র্যাজুয়েশন নিয়েছি দু'বছর হলো। এম এ করা আর হলো না। ছোট্ট একটা প্রাইভেট এজেন্সিতে ঢুকেছি। দশটা- পাঁচটা। মাস ফুরোলে সাড়ে নয় হাজার। শহরে একটা মেয়ে একলা থাকার মতো ভাড়াবাড়ি পেতে কতটা কষ্ট  তা জানো। এক হাজার তো বাড়ি ভাড়াই দিতে হয়। নিজের খরচ চালিয়ে বাকিটা মা'কে পাঠাই। একটা ভালো চাকরীর আমার ভীষণ দরকার। একটার পর একটা চাকরীর পরীক্ষা দিচ্ছি। কিচ্ছু হচ্ছে না। সবখানে tough কম্পিটিশন। আমার মতো মধ্য-মেধার ছেলেমেয়েদের যে কি দুরবস্থা জানো ! বাবা বিয়ের কথা ভাবছে। মা রেগে যায়। বলে ---"এক মেয়ে বিয়ে দিয়ে আক্কেল হয় নি ! বহ্নি'র বিয়ে নিয়ে তোমায় ভাবতে হবে না। ওকেই ভাবতে দিও"।

ম্যাম , আমি কিছুই ভাবতে পারছিনা একটা ভালো চাকরী ছাড়া। morality তো তুমিই বানিয়ে দিয়েছো এমন।  বাবার ক্রমশঃ ক্ষয়িষ্ণু শরীর , মায়ের কর্মক্লান্ত সংসার , দিদির ফ্যালফ্যাল দৃষ্টি ---- ওসব দেখতে হয় বলে বাড়ীতে খুব কম যাই । জয়দীপেরও কোন চাকরী হচ্ছে না। তাছাড়া ওরও তো ফ্যামিলি বার্ডেন আছে । সেদিন তুমি আমায় সিরিয়াসলি খুব বকলে। না , ওই মিষ্টি বকুনি নয়। আমি বলেছিলাম শুধু যে ----''মাঝে মাঝে মনে হয় এই দেশটাই আমার নয়। রিজার্ভেশন এর পর আমরা যারা বেশির ভাগ আছি তাদের কথা এই দেশটা কবে ভাববে ? মনে হয় বিদেশে পালাই। গিয়ে রেস্তোরাঁয় কাজ করি। কিংবা পেট্রোল পাম্পে। টাকা তো আসবে ! আমার যেকোন মূল্যে টাকা চাই !"

তুমি আমায় "স্বার্থপর" বললে। "এঁচোরে পাকা" বললে। "ESCAPIST"  বললে।  আরও বললে দেশকে ভালবাসতে শিখিনি। কেন ? কি অন্যায় কথা বলেছি আমি ? কোন কবি যখন বলেন --" এ মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয় । এ জল্লাদের উল্লাস মঞ্চ আমার দেশ নয় ..." তখন তুমি তা আবৃত্তি করে শোনাও। আবেগে তোমার চোখে জল চিকচিক করে। আর আমার কথায় তোমার আমাকে স্বার্থপর মনে হলো ? কেন ? আমি কবিতা লিখতে পারি না বলে ? পারি না তো ! আমি সোজাসাপ্টা বলি। "পাথরকে পাথর , গাছকে গাছ"।

আমায় ক্ষমা করে দিও। এই প্রথম তোমাকে আমি অভিযুক্ত করলাম। তুমি আসলে আমাকে অভিনয় করে যেতে শিখিয়েছিলে। হাসি না পেলেও হাসবে। ভালো না থাকলেও বলতে হবে ভালো আছি -- "বিন্দাস" । কেন মিথ্যে বলতে শেখালে। তোমার মতো আয়রন হতে পারিনি। আমি দুর্বল। ভাঙছি। রোজ একটু একটু করে।

ভেঙে যেতে যেতেও তোমায় মনে পড়ে। তাই লিখছি। আবার স্কুলের দিনগুলোতে ফিরতে ইচ্ছে করে। যেখানে তোমার হাসিটাকেই সত্যি মনে হতো। তুমি সাহস জোগাতে। "বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা / বিপদে আমি না যেন করি ভয় ..."

তুমি রাগ করো না। মাথার ঠিক নেই। আবোল তাবোল অনেক বললাম। জানি , তুমিই ঠিক। বুঝতে পারছি , কতটা আঘাত সহ্য করলে তোমার মতো সবসময় হাসতে পারা যায়। বাঁচতে পারা যায়। তোমার হাতটা আরেকবার আমার মাথায় রাখো। আমি ভাঙতে চাই না। তোমার মতো "আয়রন" হতে চাই। পাশে থেকো , যেমন এতদিন ছিলে।

                     ইতি ------
                    তোমার একসময়ের সেরা ছাত্রী ,
                               
                                        বহ্নি
03/02/2017

              -------------------//-----------------
* পত্র সাহিত্যের ক্ষুদ্র প্রয়াস

মধুমিতা নাথ
03/02/2017

রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৫

কথা আছে শুনে যাও.21(একুশ)-----
--------------------------------------------------------
দুর্দন্ড প্রতাপাদিত্য প্রপিতামহ
রাজা.সুলভ প্রজা দরদী |
রুক্ষ মাটির বুকে ,
ক্লান্ত চাষীর উলংগ পিঠে
প্রজাপিতার দগ্ দগে প্রজা প্রেম |
বন্ধুজন রসিকা.সুরাসক্ত |
বেল ফুল গন্ধে মাতাল দরবারী কানাড়া.
সঁইয়া...!! !!

সুরসিক পিতার খেয়ালী সুপুত্তুর
আলস্য.বিনোদন.রস টইটুম্বুর !
জগত জোড়া জাগতিক প্রেম |
আকন্ঠ ষর্ষেফুল মাঠে ,
বন্ধুজন গুন্ গুনে ড্রোন্ !!
পার্শিক গোবরে.পদ্ম পিতা , মৃদুভাষী |
অবলোকনে.পর্যবেক্ষণে.জ্ঞানাণ্বেষণে ,
অবশেষে আরোহণে... |
উদার.কৃপণ | গদগদ পরিমিত বন্ধুজনে ||
বর্তমানের চলমান.
কারণে অকারণে খুশির কারণে
বিদ্রূপ জর্জরিত , জবুথবু জড়োসড়ো |
কিংকর্তব্যবিমূঢ় !!
আছে আছে , নাই নাই বন্ধুজন যত |
গলা.চেরা সুর বাজে.
"'আমাকে আমার মতো থাকতে দাও..." !!
ভাবী প্রজন্ম.
ভোঁ.কাট্টা হাওয়ার তোড়ে |
স্বপ্ন.দেখা বন্ধু.মিছিলে উদাত্ত উত্তাপ !
হুজুগে ! মাত্রাধিক অর্বাচীন !
নাকি বদ্ধ উন্মাদ !!
------------------------
মধুমিতা নাথ
কথা আছে শুনে যাও.24 (চব্বিশ )---
--------------------------------------------------
উপদ্রব হওয়া অভিশাপ বই কিছু তো নয় !
জেনেছি প্রয়োজন শেষ তোর |
ধোঁয়া ওঠা চেলাকাঠের নিবু নিবু আগুনে ,
ফুসফুস খুঁড়ে আনা অকৃপণ নিঃশ্বাস |
মজবুত বক্ষ.পঞ্জর জুড়ে.
স্বপ্ন.রঙিন নিঃশ্বাস |
প্রশ্বাসে গেছে কতো বিষ বায়ু !
লক্ লকে শিখা উদ্ধত প্রজ্জ্বলনে |
দিগন্তে উদ্ভাসিত সাতরঙ |
ভয় ভয় রুগ্ন শীর্ণ নিঃশ্বাস |
পাঁজর জুড়ে হাপরের বেঢপ ছন্দ ,
গলিত স্রোতে ঠাণ্ডা শিরা উপশিরা |
দলা পাকানো ধোঁয়ার কুন্ডলী.
নীলকন্ঠ !!
প্রয়োজন ফুরোলে উপদ্রব বই কিছু তো নয় !
নিঃশ্বাস জুড়ে শুধু অভিশাপ ||
কথা আছে শুনে যাও.25 ( পঁচিশ )--
--------------------------------------------------
হৃদয় কাটার ছুরিটা অনেক পুরোনো ,
মরচে.ধরা , ভোঁতা |
বারবার খুঁচিয়ে তবেই না হদিস মিলবে
প্রত্যাশিত হৃদয়ের |
ক্লান্ত ব্যথারা রক্ত হয়ে ঝরবে |

কোন্ শাইলক্ তুমি ?
বুড়ো আঙুল নয় ,
নাক নয় , কান নয় ,
এমন কি তীক্ষ্ণ তরতাজা মগজও নয় !
ওই পেলব হৃদয়ের মাংসই
তোমার " ফেভারিট ডিশ " !!
কত আউন্স চাই ?
তোমার ভোঁতা ছুরিতে শান তোলার গান বাজে |
এক পোঁচ.
"তোমার দেহের কস্তুরী গন্ধে আমি মাতোয়ারা ..."
ওটা কস্তুরী নয় , বিষ |
প্রয়োজনে ঢেলে দেবো তোমার ঘুমন্ত কানে |
দুই পোঁচ.
" চলোনা হারিয়ে যাই এই জন.সমুদ্র পেরিয়ে ..."
কোন আগুন সমুদ্রে আমকে ফেলতে চাও ?
উল্টোটা করে দিতে পারি প্রয়োজনে |
তিন পোঁচ.
" আমায় তুমি বিশ্বাস করতে পারো , নন্দিনী ..."
মরণ !!
শান দিতে থাকো নব্য শাইলক্ |
আর ঘা যদি মারতেই হয়.
" সাবধান !
আমি এ কালের পোর্শিয়া বলছি.
এক ফোঁটা যেন না হয় রক্তপাত " ||